ছোটদের ছড়া কবিতা | শিশুদের জন্য ৬০টি বাংলা ছড়া
📘 ছোটদের ছড়া কবিতা (৬০টি)
ছড়া ১
কমল গেছে কলকলিতে কমলা কলা কুল আনতে, ক'টাকায় সে ক'ফল কেনে, কয় সে-কথা কানে কানে।
ছড়া ২
বড় বড় বকগুলো বনে বনে বসে বকেদের বাড়ি বুঝি বিলের বালুচরে। বালুতে বালুতে বকুল বিকেলবেলায়, বাতাসে বাতাসে বকুল সুবাস বিলায়।
ছড়া ৩
মেঘের ওপর মেঘ করেছে, রঙের ওপর রঙ। মন্দিরেতে কাসর ঘন্টা বাজল ঢং ঢং।
ছড়া ৪
টকর গেরামের টুকন-দা খেয়েছিল দই দই খেয়ে হল কী, বলি সই— জিভ হল এমন টক, চাকে বলে টা, চিনিকে বলে টিনি, ভাতকে বলে টাত আর দইকে তো বলে টই।
ছড়া ৫
বারো মাসে ছয় ঋতু, বছর হয় শেষ। সপ্তাহে সাতদিন লিখে দেখো বেশ।
ছড়া ৬
হরিণ গেছে তৃণ আনতে হরিণাদিকের বনে, ঘোড়া ভায়া চেয়ে আনল দুটাকা ঋণে।
ছড়া ৭
ঝর ঝর, ঝম ঝম আষাঢ়ের বৃষ্টি পড়ে, বেড়াল ছানা পিছু পিছু 'মিঞাও' 'মিঞাও' করে।
ছড়া ৮
চাঁদের দেশে চলো সোনামণি খুকুমণি কোথায় যাবে বলো?
ছড়া ৯
এই যে লোকটি। ভাত না-থাক, জল না-থাক চাই শুধু আগুনটি।
ছড়া ১০
খাতার পাতায় রঙ মেশায় গাঢ় নীল হলদে, আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামে আষাঢ়ের সন্ধ্যে।
ছড়া ১১
সকালের মিঠে রোদে ঠাকুমা বসেন বারান্দায়, ঠেলা নিয়ে নকুল-দাদা কাঁঠাল আনতে যায়।
ছড়া ১২
রোদ এল, বৃষ্টি এল, খেঁকশেয়ালের বিয়ে। চড়ুই পাখি সুপারি কাটে সোনার সর্তা দিয়ে।
ছড়া ১৩
নৌকাভরা নৌরি নিয়ে গৌরমাঝি যায়, পৌরসভার চৌকিদার কৌতুকে তাকায়।
ছড়া ১৪
টুপটাপ টুপটাপ বৃষ্টি যে ঝরে, আকাশের জল সব পৃথিবীতে পড়ে। নদী নালা খাল বিল ভরে ভরে যায়, ছোট্ট ছোট্ট ব্যাঙগুলো মাথা তুলে চায়।
ছড়া ১৫
ঘুম থেকে উঠেই ঠিক মাজি আমি দাঁত। মুখ ধুয়ে দুধ খাই; হাতে নিই পাঠ। জল ঢেলে চান করি সাবান গায়ে দিয়ে। হাত ধুয়ে খাই ভাত ভালো করে চিবিয়ে।
ছড়া ১৬
শৈবালহাটে কৈলাশের ঘর মৈনাকের শৈলশহর, তৈল আনে নৈশ আহারে অনেক টাকা দর।
ছড়া ১৭
লঙ্কার স্বাদ 'ঝাল', 'তেতো' নিমপাতা, চিনি মধু আঁখ এইসব মিঠা। জলপাই 'টক' আর 'কষা' আমলকী, বলতে পার নুনের স্বাদ, চেখে দেখেছ কি?
ছড়া ১৮
শ শ শিউলি ফুল, শরতের রাতে। বাঁশবন আকাশ ছোঁয়, হাত বাড়ায় চাঁদে।
ছড়া ১৯
খোকন খোকন করে মায়, খোকন গেছে কাদের নায়? সাতটি কাকে দাঁড় বায়, খোকন রে তুই ঘরে আয়।
ছড়া ২০
কুকুর করে ঘেউ ঘেউ, ভোমরা করে গুন গুন। বিড়াল করে মিউ মিউ, পায়রা করে বকুম বকুম।
ছড়া ২১
চাঁদমামা চাঁদমামা একটি তারা দাও, একটি না একটি না দুটি তারা দাও। হাত নেই পা নেই কেমন করে দেব, সোনামণির কপালেতে টিপ পরিয়ে যাব।
ছড়া ২২
ওলকপি আর ওল খেয়ে লাগে ভালো। ওবাজারে ওসব পাই ওদিকে চলো।
ছড়া ২৩
গোরু নিয়ে গগন দাদা গোচারণে যান, গরম দিনে গোরুর মাঠে গলা ছেড়ে গান।
ছড়া ২৪
চুপ চাপ চিমটি কাটে চার-চারটে পিঁপড়ে, চার চামচ চিনি চাই; চায়ের সাথে চিড়ে।
ছড়া ২৫
খোকা ঘুমাল, পাড়া জুড়াল বর্গি এল দেশে। বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে? ধান ফুরুল, পান ফুরুল- খাজনার উপায় কী? আর ক'টা দিন সবুর করো, রসুন বুনেছি।
ছড়া ২৬
উদ বিড়ালটি উড়তে চায়, উপায় একটি করতে চায়। মন একদিন উদাস ছিল, উপুড় হয়ে ভাবছিল। উঠোন তখন ফাঁকা ছিল, উড়োজাহাজ উড়ছিল। হঠাৎ উঠে পালটি মেরে, চিৎকার করে, 'ওরে বাপরে!'
ছড়া ২৭
ইচন বিচন আন রে দোলা, ইকড় খাগড় বাঁশের শলা। ইলশে মাছের ঝোলটি তোলা, ইচড় খেয়ে পাপড় ভোলা।
ছড়া ২৮
ফুল ফুল ফুলটি আয় আমার দুলটি। যার হাতে 'প' আছে, এগিয়ে আয় বকুলটি।
ছড়া ২৯
বিড়াল নাচে ধিনতা ধিন ইঁদুর বাজায় ঢোল, বিড়ালের মা রেঁধে রেখেছে পাবদা মাছের ঝোল।
ছড়া ৩০
থরহরি দিন রাত থরথর কাঁপছে। থরগিরি ভুতনাথ, থলবন নাচছে।
ছড়া ৩১
ধিনতা ধিনা ধিন, নরেন বাজায় টিন। বায়েন হয় কানাইও, নয়টি রাত দশদিন।
ছড়া ৩২
লাউ রেখে গাই বাঁধি, গাই বেঁধে লাউ রাখি। রাখা পাই, কচি লাউ, বাঁধা গাই, নিয়ে যাও।
ছড়া ৩৩
রং রং নানা রং কোথায় পাই বলো, রামধনুতে সাতটি রং গুনে দেখি চলো। বেগুনি, নীল, আকাশি সবুজ হলুদ, কমলা ও লাল, আকাশে যেন নৌকো এক; তোলে সাত রঙের পাল।
ছড়া ৩৪
মনু যাবে মাছ ধরতে পুকুরে জল মাঠে জল আকাশে মেঘের ছাদ। মনু বেরোয় বড়শি হাতে মাছ খাবার সাধ।
ছড়া ৩৫
ও হরি মশাগো চলো যাই, মশা খেদাই মশা কয়, মল্লাম গো, ডেফলের ধোঁয়া দিব গো।
ছড়া ৩৬
পেখম তুলে ময়ূর নাচে পাঁখির সভার মাঝে, ই না দেখে তোতাময়না আনন্দেতে নাচে।
ছড়া ৩৭
এই বাগানের নানা ফুল মোরা মিলেমিশে করি খেলা। মন শুধু বলে কেন বাড়ি ফেরা ছেড়ে এই পাঠশালা?
ছড়া ৩৮
টক মিঠে কষা কত যে ফল, ফল খেলে দেহে পাই হাতির মতো বল।
ছড়া ৩৯
পিঁপড়ে-দাদু পিঁপড়ে-দাদু কোথায় তুমি যাও, চিনির ডিবি খুলে দিলাম খাও যদি খাও।
ছড়া ৪০
খোকা যাবে শ্বশুরবাড়ি, সঙ্গে যাবে কে? ঘরে আছে হুলো বেড়াল কোমর বেঁধেছে।
ছড়া ৪১
ধানের খেতে আজ ধানের খেতে রৌদ্রছায়ায় লুকোচুরির খেলা রে ভাই, লুকোচুরির খেলা। নীল আকাশে কে ভাসালে সাদা মেঘের ভেলা রে ভাই, লুকোচুরির খেলা।
ছড়া ৪২
রামগরুড়ের ছানা রামগরুড়ের ছানা হাসতে তাদের মানা, হাসির কথা শুনলে বলে, “হাসব না-না, না-না।” সদাই মরে ত্রাসে— এঁ বুঝি কেউ হাসে! এক চোখে তাই মিটমিটিয়ে তাকায় আশে পাশে।
ছড়া ৪৩
ছোটো পাখি আমি বাবুই আমার নাম। সারাদিন উড়ে বেড়াই এ গ্রাম-ও গ্রাম। উঁচু উঁচু গাছ খুঁজি সারাদিন ধরে। তাল সুপারি খেজুর পেলে আনন্দে মন ভরে। সেই গাছেতেই বানাই বাসা হাসি খুশি মনে। কারিগর পাখি আমি সবাই তো তাই জানে।
ছড়া ৪৪
ফড়িংবাবুর বিয়ে! ফড়িংবাবুর বিয়ে! টিকটিকিতে ঢোলক বাজায়, ধুচনি মাথায় দিয়ে! বেয়ারা হল তেলাপোকা পালকি কাঁধে নিয়ে! দেখতে এল সেজেগুজে, পিঁপড়েরা মায়েঝিয়ে! আরে, ফড়িংবাবুর বিয়ে! ফড়িংবাবুর বিয়ে!
ছড়া ৪৫
ওপেনটি বাইস্কোপ নাইনটেন টেস্কোপ সুলতানা বিবিয়ানা সাহেব বাবুর বৈঠকখানা। কাল বলছেন যেতে পান সুপারি খেতে, পানের-রাজা মৌরি বাটা ইস্প্রিং-এর ছবি আঁটা।
ছড়া ৪৬
ইকড়ি মিকড়ি ইকড়ি মিকড়ি চামচিকড়ি চামের আগায় মজুন্দার। মজুন্দারের হীড়িকুড়ি দুয়ারে বসে চাল কাড়ি। চাল কাড়তে হল বেলা ভাত খাও সে দুপুরবেলা। ভাতে পড়ল মাছি কোদাল দিয়ে টাছি। কোদাল হল ভোঁতা খ্যাকশেয়ালের মাথা।
ছড়া ৪৭
খোকার নাচন আয় রে আয় টিয়ে নায়ে ভরা দিয়ে! না নিয়ে গেল বোয়াল মাছে, তা দেখে ভোঁদড় নাচে! ওরে ভোঁদড় ফিরে চা, খোকার নাচন দেখে যা!
ছড়া ৪৮
মাসি গো মাসি মাসি গো মাসি পাচ্ছে হাসি, নিম গাছেতে হচ্ছে শিম। হাতির মাথায় ব্যাঙের ছাতা, কাকের বাসায় বগের ডিম।
ছড়া ৪৯
শুনেছ কি বলে গেল সীতানাথ বন্দ্যো? আকাশের গায়ে নাকি টকটক গন্ধ? টকটক থাকে নাকো হলে পরে বৃষ্টি— তখন দেখেছি চেটে একেবারে মিষ্টি।
ছড়া ৫০
আল্লা মেঘ দে আল্লা মেঘ দে পানি দে, ছায়া দে রসুল। ছায়া দে রসুল রে আল্লা মেঘ নামাইয়া দে। ঝুম-ঝুমাইয়া মেঘের পানি খেত ভাসাইয়া দে।
ছড়া ৫১
বান আইল বান আইল বরিষা আইল ভেসে আইল বট-পাতা। জোড়া পাতা খুলে দেখি তাতে টুসুর নাম লেখা।
ছড়া ৫২
হাত মুখ ধুয়ে নিও বাড়ি ফিরে এসে। খাওয়া দাওয়া সেরে নিয়ে খেলো মিলে মিশে।
ছড়া ৫৩
পড়াশোনা হলে সারা স্নান সেরে নাও। জলখাবার হলে সারা পাঠশালায় যাও।
ছড়া ৫৪
ভোরবেলা পাখি বলে ‘খুকু, আর নেই রাত।’ চটপট উঠে পড়ো মেজে নাও দাঁত।
ছড়া ৫৫
এক দুই তিন গুনে মাছগুলো নিল চিলে। চার পাঁচ ছয় করবে নাকো ভয়।
ছড়া ৫৬
গোল গোল গোল মা-র চুড়ি গোল। গাড়ির চাকা গোল বলতো সোনামণি আর গোল কী?
ছড়া ৫৭
দুটি হাঁস একটি বিলে চুপি চুপি কথা বলে। আরেকটি উড়ে এলো বলতো সোনামণি দুই আর একে তিন হলো।
ছড়া ৫৮
দেখো দেখো তিনটি হাঁস তারা করে জলে বাস। আরও দুটি উড়ে আসে সাঁতার কাটে মিলেমিশে। দুই আর তিন মিলে পাঁচ হলো সংখ্যা দুটি যোগ হলো।
ছড়া ৫৯
থালায় ছিল তিনটি ডিম খোকন খেল একটি। থালায় এখন থেকে গেল খাওয়ার বাকি দুটি। তিন থেকে এক চলে গেলো হাতে দুই থাকে। এবারে বেশ বুঝতে পারি বিয়োগ কাকে বলে।
ছড়া ৬০
এক যে ছিলেন রাজা তাঁর কথা শুনলে পাবে মজা। দুই দিন দুই রাত রাজামশাই বিছানাতেই কাত। তিন দিন পর এলেন কবিরাজ এসেই দেখেন কাহিল মহারাজ। চার দাগ ওষুধ দিলেন রাজা রোজ তা-ই খেলেন। পাঁচ-ছয় দিন এভাবেই গেল সাত দিনেও তিনি হলেন না ভালো। আট দিন গেলো, গেল আট রাত এবারে রানি দিলেন গরম ভাত। নয় দিনে রাজা গায়ে বল পান দশ দিনে তিনি গেয়ে ওঠেন গান।
✔ প্রতিদিন ২–৩টি ছড়া পড়ানো যথেষ্ট
✔ আবৃত্তি ও দলগত পাঠে শিশুদের আগ্রহ বাড়ে

কথোপকথনে যোগ দিন