Join Telegram Group to Get Latest Updates. Join Now

স্পন্দন (১ম ভাগ): ৩য় শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত কবি ও সাহিত্যিকদের পরিচিতি

 


📚 স্পন্দন (১ম ভাগ): ৩য় শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে আলোচিত কবি ও সাহিত্যিকদের পরিচিতি

বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ তৈরি করতে আসাম সরকার প্রণীত ৩য় শ্রেণির বাংলা পাঠ্যপুস্তক “স্পন্দন (১ম ভাগ)”–এ এমন কিছু কবি ও সাহিত্যিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাঁরা বাংলা ও অসমীয়া সাহিত্যে অমূল্য অবদান রেখেছেন।
এই লেখায় আমরা তাঁদের সংক্ষিপ্ত কিন্তু তথ্যসমৃদ্ধ পরিচিতি তুলে ধরছি—শিক্ষার্থীদের উপযোগী ভাষায়।

SCERT Assam | Bengali | Class 3 | স্পন্দন | বাংলা | তৃতীয় শ্রেণী | কবি পরিচিতি | বাংলা প্রশ্নোত্তর


১. সুনির্মল বসু (১৯০২–১৯৫৭)

সুনির্মল বসু বাংলা শিশুসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি ও লেখক।
তাঁর কবিতায় শিশুমনস্তত্ত্ব, প্রকৃতি ও দৈনন্দিন জীবনের সহজ অনুভূতির সুন্দর প্রকাশ পাওয়া যায়।
সবার আমি ছাত্র’ কবিতাটি আজও শিশুদের মধ্যে সমান জনপ্রিয়।
ছড়া, গল্প ও কিশোর উপন্যাসের মাধ্যমে তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন।


২. কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯–১৯৭৬)

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলাদেশের জাতীয় কবি এবং বাংলা সাহিত্যের বিদ্রোহী কবি
অন্যায়, শোষণ ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী ছিল দৃপ্ত ও সাহসী।
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ ‘অগ্নিবীণা’ এবং অসংখ্য গান নিয়ে গঠিত ‘নজরুল গীতি’ মানবতা ও সাম্যের বাণী বহন করে।


৩. সুকুমার রায় (১৮৮৭–১৯২৩)

সুকুমার রায় বাংলা সাহিত্যে খেয়ালরস বা ননসেন্স রাইমের জনক
আবোল তাবোল’, ‘হযবরল’, ও ‘পাগলা দাশু’ শিশু-কিশোরদের কল্পনাশক্তিকে উজ্জীবিত করেছে।
তিনি বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়ের পিতা


৪. ড. ভবেন্দ্রনাথ শইকীয়া (১৯৩২–২০০৩)

ড. ভবেন্দ্রনাথ শইকীয়া ছিলেন অসমীয়া সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র।
তিনি উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক ও চলচ্চিত্র—সব ক্ষেত্রেই কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন।
অন্তরীয়’, ‘কালকাল’ গ্রন্থ এবং ‘অগ্নিস্নান’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি সুপরিচিত।
তিনি পদ্মশ্রীসাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত।


৫. শ্রীবরুণ (বরুণ গোস্বামী)

শ্রীবরুণ হলো বিশিষ্ট অসমীয়া কথাসাহিত্যিক বরুণ গোস্বামীর ছদ্মনাম
তিনি মননশীল ছোটগল্প ও সামাজিক উপন্যাস রচনার জন্য পরিচিত।
তাঁর লেখায় সমকালীন সমাজ ও মানুষের জীবনসংগ্রাম বাস্তবভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।


৬. জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা (১৯০৩–১৯৫১)

জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালা অসমীয়া সংস্কৃতির ‘রূপকোঁয়র’ নামে খ্যাত।
তিনি অসমের প্রথম চলচ্চিত্র ‘জয়মতী’ (১৯৩৫)–এর নির্মাতা।
কবি, নাট্যকার, গীতিকার ও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি অসমীয়া সংস্কৃতিতে নবজাগরণ এনেছিলেন।
তাঁর মৃত্যুদিবস ‘শিল্পী দিবস’ হিসেবে পালিত হয়।


৭. কামিনী রায় (১৮৬৪–১৯৩৩)

কামিনী রায় ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের প্রথম নারী স্নাতক এবং একজন প্রখ্যাত কবি।
তাঁর কবিতার মূল বিষয় ছিল নারীজাগরণ, মানবতা ও সামাজিক সচেতনতা।
আলো ও ছায়া’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।
তিনি আজীবন নারী অধিকার রক্ষায় কাজ করেছেন।


৮. নকুলচন্দ্র ভূঞা (১৮৯৫–১৯৬৮)

নকুলচন্দ্র ভূঞা ছিলেন অসমীয়া সাহিত্যের বিশিষ্ট ঐতিহাসিক, নাট্যকার ও গল্পকার।
তিনি অসম সাহিত্য সভার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অসমের লোকসংস্কৃতি ও ইতিহাস নিয়ে তাঁর গবেষণা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বহাগী’ তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।


৯. মদনমোহন তর্কালঙ্কার (১৮১৭–১৮৫৮)

মদনমোহন তর্কালঙ্কার ছিলেন উনিশ শতকের খ্যাতনামা পণ্ডিত ও শিশুশিক্ষা আন্দোলনের পথিকৃৎ।
তাঁর রচিত ‘শিশুশিক্ষা’ গ্রন্থের
পাখি সব করে রব, রাতি পোহাইল
কবিতাটি আজও প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যবহৃত।
তিনি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের সহযোগী ছিলেন।


১০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৬১–১৯৪১)

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছিলেন বিশ্বকবি এবং ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেলজয়ী প্রথম এশীয়
কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, সংগীতকার ও দার্শনিক হিসেবে তিনি অতুলনীয়।
ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত তাঁরই রচনা।
তিনি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা


১১. লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া (১৮৬৪–১৯৩৮)

লক্ষ্মীনাথ বেজবরুয়া আধুনিক অসমীয়া সাহিত্যের পথপ্রদর্শক।
তিনি ‘সাহিত্যরথী’‘রসরাজ’ উপাধিতে ভূষিত।
অসমের জাতীয় সংগীত ‘ও মোর আপনার দেশ’ তাঁরই রচনা।
ছোটগল্প ও ব্যঙ্গ রচনার মাধ্যমে তিনি অসমীয়া সাহিত্যে নবজাগরণ আনেন।



✍️ Edu-Barak Learning–এর লক্ষ্য

এই ধরনের পাঠ্যভিত্তিক ও গবেষণানির্ভর কনটেন্টের মাধ্যমে
শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই বোঝা সহজ করা,
শিক্ষকদের সহায়ক উপকরণ দেওয়া
এবং অভিভাবকদের নির্ভরযোগ্য রিসোর্স সরবরাহ করাই Edu-Barak Learning–এর মূল উদ্দেশ্য।